ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

মুসলিমদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ভিসা প্রত্যাহার


ডালাস বিমানবন্দরে ভিসা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর কান্নায় ভেঙে পরেন অনেকে
বিশ্বের সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য আবেদন করা এক লাখ ভিসা প্রত্যাহার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার আলেকজান্দ্রিয়ার ফেডারেল কোর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ভিসা প্রত্যাহারের এ সংখ্যা এমন এক সময় প্রকাশ করা হয়েছে যখন আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলার শুনানি চলছে। ইয়েমেনের দুই ভাইয়ের জন্য দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মামলাটি দায়ের করেন। ইয়েমেনের বাসিন্দা ওই দুই ভাই গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের উদ্দেশে ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় ভিসা ফেরত নিতে তারা নিগ্রহের শিকার হয়। এক পর্যায়ে তারা তর্কে জড়িয়ে পরেন এবং খুবই দ্রুত তাদের ইথিওপিয়ার একটি ফিরতি বিমানে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিমানবন্দরে নিগৃহীত ইয়েমেরেন ওই দুই ভায়ের পক্ষে দেশটির লিগ্যাল এইড জাস্টিস সেন্টারের আইনজীবী সিমন স্যানডোভাল মসেনবার্গ বলেন, ‘এতো বেশি ভিসা প্রত্যাহারের ঘটনায় আমি খুবই বিষ্মিত।’

তবে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত ভিসা প্রত্যাহারের সংখ্যা ৬০ হাজার বলে জানানো হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব কনসুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের একজন মুখপাত্র ভার্জিনিয়া ইলিয়ট বলেন, ‘ভিসা প্রত্যাহারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে তারা যদি যুক্তরাষ্ট্রের মাটি ত্যাগ করে এবং আবার ফিরে আসতে চাই তবে তাদের ভিসা আর কার্যকর থাকবে না।’

তবে আলেকজান্দ্রিয়ায় আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে দেশটির অভিবাসন অফিসার এরেজ রুভেনি জানাতে পারেননি ডালাস বিমানবন্দর থেকে আসলে কতজন ব্যক্তিকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, ‘বিমানবন্দরে আসা গ্রিণ কার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।’

ভার্জিনিয়ার এক আইনজীবী জেনারেল স্টুয়ার্ট রাফায়েল জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এ সমস্যা সমাধানে এমন বিচ্ছিন্নভাবে মামলা করা যথেষ্ট না। যতক্ষণ না দেশটির ডালাস ও অন্যান্য বিমানবন্দর থেকে সঠিক কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তা জানা যাবে ততক্ষণ এ বিষয়ে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলা খুবই সমস্যার। তবে আমি সন্তুষ্ট যে তারা খারাপ মানুষকে ফেরত পাঠাতে চাইছে। আমি এই মাত্র জানতে পারলাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের কড়াকড়ির কারণে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও লিবিয়ার এক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

গত ২৮ জানুয়ারি সিরিয়াসহ সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশও চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। এক নির্বাহী আদেশে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইসব পদক্ষেপ নিয়েছেন। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপগুলো মার্কিন নাগরিকদেরকে সন্ত্রাসী হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

মুসলিমদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ভিসা প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


ডালাস বিমানবন্দরে ভিসা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর কান্নায় ভেঙে পরেন অনেকে
বিশ্বের সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য আবেদন করা এক লাখ ভিসা প্রত্যাহার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার আলেকজান্দ্রিয়ার ফেডারেল কোর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ভিসা প্রত্যাহারের এ সংখ্যা এমন এক সময় প্রকাশ করা হয়েছে যখন আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলার শুনানি চলছে। ইয়েমেনের দুই ভাইয়ের জন্য দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মামলাটি দায়ের করেন। ইয়েমেনের বাসিন্দা ওই দুই ভাই গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের উদ্দেশে ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় ভিসা ফেরত নিতে তারা নিগ্রহের শিকার হয়। এক পর্যায়ে তারা তর্কে জড়িয়ে পরেন এবং খুবই দ্রুত তাদের ইথিওপিয়ার একটি ফিরতি বিমানে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিমানবন্দরে নিগৃহীত ইয়েমেরেন ওই দুই ভায়ের পক্ষে দেশটির লিগ্যাল এইড জাস্টিস সেন্টারের আইনজীবী সিমন স্যানডোভাল মসেনবার্গ বলেন, ‘এতো বেশি ভিসা প্রত্যাহারের ঘটনায় আমি খুবই বিষ্মিত।’

তবে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত ভিসা প্রত্যাহারের সংখ্যা ৬০ হাজার বলে জানানো হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব কনসুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের একজন মুখপাত্র ভার্জিনিয়া ইলিয়ট বলেন, ‘ভিসা প্রত্যাহারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে তারা যদি যুক্তরাষ্ট্রের মাটি ত্যাগ করে এবং আবার ফিরে আসতে চাই তবে তাদের ভিসা আর কার্যকর থাকবে না।’

তবে আলেকজান্দ্রিয়ায় আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে দেশটির অভিবাসন অফিসার এরেজ রুভেনি জানাতে পারেননি ডালাস বিমানবন্দর থেকে আসলে কতজন ব্যক্তিকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, ‘বিমানবন্দরে আসা গ্রিণ কার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।’

ভার্জিনিয়ার এক আইনজীবী জেনারেল স্টুয়ার্ট রাফায়েল জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এ সমস্যা সমাধানে এমন বিচ্ছিন্নভাবে মামলা করা যথেষ্ট না। যতক্ষণ না দেশটির ডালাস ও অন্যান্য বিমানবন্দর থেকে সঠিক কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তা জানা যাবে ততক্ষণ এ বিষয়ে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলা খুবই সমস্যার। তবে আমি সন্তুষ্ট যে তারা খারাপ মানুষকে ফেরত পাঠাতে চাইছে। আমি এই মাত্র জানতে পারলাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের কড়াকড়ির কারণে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও লিবিয়ার এক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

গত ২৮ জানুয়ারি সিরিয়াসহ সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশও চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। এক নির্বাহী আদেশে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইসব পদক্ষেপ নিয়েছেন। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপগুলো মার্কিন নাগরিকদেরকে সন্ত্রাসী হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে।