
স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করতে ধর্মের নামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কলঙ্কিত করতে চাইছে।
১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রজতজয়ন্তী ও সপ্তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে পাঁচ শহীদ পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এসব পরিবারের পক্ষে শহীদজায়া লিলি চৌধুরী, পান্না কায়সার, শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, সুচন্দা রায়হান ও সারা মাহমুদ রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে উত্তরীয় ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। এর আগে সকালে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে রজতজয়ন্তী ও সপ্তম সম্মেলনের সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়-এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিসত্তার নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে ঘর ছাড়তে, দেশান্তরী হতে বাধ্য হচ্ছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পরমত সহিষ্ণুতাকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ উপাদান হিসেবে বর্ণনা করে আবদুল হামিদ বলেন, কোনো অপশক্তি এই গৌরবময় অর্জনকে ম্লান করতে পারবে না। আমাদের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ শুধু সংরক্ষণ নয়, এর বিকাশও ঘটাতে হবে।
এ দেশে সরকার ও নাগরিক সমাজ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করছে, তা বহু দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, শুধু ইসলাম নয়, কোনো ধর্মই নরহত্যা, সন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞ সমর্থন করে না। সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হতে হবে, হতে হবে ঐক্যবদ্ধ।
স্বাধীনতার দুই দশক পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন গড়ে ওঠা এবং সেই আন্দোলনে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের অবদানের কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করতে এ আন্দোলন বিশাল ভূমিকা রেখেছে। আজ আপনারা এই আন্দোলনের রজতজয়ন্তী উদযাপন করছেন। গত ২৫ বছরে অনেক ঝড়ঝাপ্টা আপনাদের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। শত বাধা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল থেকে আপনারা এই সময়ে অনেক অর্জনও করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, নর্থ আমেরিকা জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি উইলিয়াম স্লোন, ফোরাম ফর সেকুলার নেপালের আহ্বায়ক যুবনাথ লামসাল, সুইডিশ মানবাধিকার কর্মী এরিক হুদলান্দ প্রমুখ।
পরে বিকেলে একই মঞ্চে ‘নির্মূল কমিটির ২৫ বছর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক মূল অধিবেশন শুরু হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি গর্বিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি এ দেশে গড়ে উঠেছিল, তার অবসান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দেশে দুটি ক্লাব আছে। একটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ক্লাব। অপরটি আগুন সন্ত্রাসী, রাজাকার মাতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ক্লাব।’
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ওই নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে।
শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নজুহাত চৌধুরী শম্পার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব সাংবাদিক হারুন হাবীব ও প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর।
বক্তারা পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন ধরনের ভুলসহ হেফাজতে ইসলামীর পরার্মশ অনুসারে পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের সমালোচনা করেন।
প্রতিনিধির নাম 