
জুলাই সনদের আইনী বৈধতা‑বিষয়ক তীব্র বিতর্কে রাজনৈতিক মঞ্চে উষ্ণ আলোচনা: তাজ উদ্দীন
ঢাকা – দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সংবিধানিক ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক শাসনের গঠন‑প্রণালীর ওপর প্রশ্ন তুলেছে জুলাই সনদ (জুলাই চুক্তি)‑এর বৈধতা। সাপ্তাহিক টক‑শো এবং মিডিয়ার মাধ্যমে একের পর এক বিশ্লেষক, আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশারদ দাবি করছেন যে, এই চুক্তি, যা ২০২২‑এর শেষার্ধে রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়, সংবিধানিক কোনো ভিত্তি রাখে না এবং এর ওপর ভিত্তি করে গৃহীত নির্বাচন ও সরকারকে আইনত অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।
সংবিধানের অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮‑এ স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া ও ভূমিকা পালন করা শুধুমাত্র পার্লামেন্টের পদ্ধতি অনুযায়ী সম্ভব। এই ধারার অধীনে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা সীমাবদ্ধ – তিনি কেবলমাত্র সংসদ গৃহীত আইনকে গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করেন; আইনের রচনা অথবা নতুন আইন প্রণয়ের ক্ষমতা তার নয়।
অন্যদিকে, অনুচ্ছেদ ১০৬‑এর ধারা ১‑এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি সংসদ ভেঙে যায়, তবে প্রেসিডেন্টের আদেশে একটি নতুন সরকার গঠন করা যেতে পারে, তবে তা স্বল্প‑মেয়াদী (৯০‑১৮০ দিন) ইন্টারিম সরকার হিসেবে সীমাবদ্ধ। এ ধারা থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রেসিডেন্টের “সরকার গঠনের অনুমতি” দেওয়া শুধুমাত্র অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালু করার অধিকার নয়।
জুলাই সনদে দাবি করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্টের গেজেটের মাধ্যমে এই চুক্তি বৈধতা পায় এবং তদনুসারে শাসনগঠন করা যায়। তবে আইনগত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত কোনো নথি যদি সংবিধানের বিধানকে লঙ্ঘন করে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায়। গেজেটের প্রকাশের আগে যদি সংবিধানিক ব্যতিক্রম না থাকে, তবে সনদে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি সংবিধানবিরোধী বলে গণ্য করা হবে।
জুলাই সনদের আইনি কাঠামো‑সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলি
১. সনদের ভিত্তিতে গৃহীত নির্বাচন
চুক্তিতে উল্লেখ আছে যে, জুলাই সনদের স্বাক্ষরকালে নির্বাচনী সময়সীমা ৯০‑১৮০ দিন মধ্যে নির্ধারিত হবে। তবে গত ১৮ মাসে মূল দুই বিরোধী দল (জামায়াত‑ই‑ইসলাম ও বিএনপি) নির্বাচনের আহ্বান স্বীকার করে না, ফলে সংবিধানের ধারা ১৬‑এর নির্বাচনী অস্থায়ী ব্যবস্থা লঙ্ঘিত হয়েছে।
- ইন্টারিম সরকার ও ক্ষমতার অপব্যবহার
ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস‑এর শাসনকে ইন্টারিম সরকার ঘোষিত করা হলেও, তার কার্যক্রমে নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা ও শাসনকর্তা হিসেবে পূর্ণ ক্ষমতার ব্যবহার সংবিধানিক সীমা অতিক্রমের অভিযোগে রয়েছে। বিশেষ করে,
প্রতিনিধির নাম 