ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সতর্ক ও প্রস্তুত থাকুন: আনসার বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ: নিজের নামের ব্যানার সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংকে এবার ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ’


রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) মতো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকেও সিবিএ’র কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দাবি-দাওয়ার জন্য এই সংগঠন কাজ করবে।’ তিনি বলেন,‘জামায়াত শিবিরের কোনও নেতাকর্মী যাতে এই ব্যাংকে সুযোগ সুবিধা নিতে না পারে,সেজন্য সংগঠন ভূমিকা রাখবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাবেক এমডি আব্দুল মান্নান যেসব কর্মকর্তাকে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করেছেন, আমরা সেসব কর্মকর্তারা এক হয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এই সংগঠন মূলত শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ)।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন তারা এবং বর্তমানে কর্মরত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়ে এই সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সময়ে বেছে বেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০১৬ সালে এক দিনেই ৭২ জনকে চাকরি থেকে ছাটাই করা হয়।’


ইসলামী ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো চিঠি
তিনি জানান, ইতোমধ্যে নতুন এই সংগঠনের সদস্য হয়েছেন ১৬০ জন। এই তালিকা আরও বড় হবে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সারাদেশ থেকে সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, তারা নিয়মনীতি মেনে এই সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।’

এদিকে সাবেক এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির নেতারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানান।

মানববন্ধনের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান জামায়াতের একজন সক্রিয় রোকন এবং স্বাধীনতাবিরোধী ও ঘাতক আলবদর বাহিনীর সদস্য। প্রচারপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের অনুসারী না হওয়া ও জামায়াতকে নিয়মিত চাঁদা না দেওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাটাই করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে আরও ৬০/৭০ জন সৎ, যোগ্য ও কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিলেন।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন আনা হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন হয়। আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানকে সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে নতুনদের। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জামায়াতে ইসলামীর দর্শন থেকেও ব্যাংকটিকে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। আগে জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিরা এই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণ করতো, এখন সেই নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়িক গ্রুপ এস আলমের হাতে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন

ইসলামী ব্যাংকে এবার ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ’

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) মতো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকেও সিবিএ’র কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দাবি-দাওয়ার জন্য এই সংগঠন কাজ করবে।’ তিনি বলেন,‘জামায়াত শিবিরের কোনও নেতাকর্মী যাতে এই ব্যাংকে সুযোগ সুবিধা নিতে না পারে,সেজন্য সংগঠন ভূমিকা রাখবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাবেক এমডি আব্দুল মান্নান যেসব কর্মকর্তাকে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করেছেন, আমরা সেসব কর্মকর্তারা এক হয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এই সংগঠন মূলত শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ)।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন তারা এবং বর্তমানে কর্মরত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়ে এই সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সময়ে বেছে বেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০১৬ সালে এক দিনেই ৭২ জনকে চাকরি থেকে ছাটাই করা হয়।’


ইসলামী ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো চিঠি
তিনি জানান, ইতোমধ্যে নতুন এই সংগঠনের সদস্য হয়েছেন ১৬০ জন। এই তালিকা আরও বড় হবে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সারাদেশ থেকে সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, তারা নিয়মনীতি মেনে এই সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।’

এদিকে সাবেক এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির নেতারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানান।

মানববন্ধনের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান জামায়াতের একজন সক্রিয় রোকন এবং স্বাধীনতাবিরোধী ও ঘাতক আলবদর বাহিনীর সদস্য। প্রচারপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের অনুসারী না হওয়া ও জামায়াতকে নিয়মিত চাঁদা না দেওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাটাই করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে আরও ৬০/৭০ জন সৎ, যোগ্য ও কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিলেন।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন আনা হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন হয়। আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানকে সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে নতুনদের। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জামায়াতে ইসলামীর দর্শন থেকেও ব্যাংকটিকে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। আগে জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিরা এই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণ করতো, এখন সেই নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়িক গ্রুপ এস আলমের হাতে।