ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সতর্ক ও প্রস্তুত থাকুন: আনসার বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ: নিজের নামের ব্যানার সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ: রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস

পিলখানা ট্র্যাজেডি আজ


আজ ২৫শে ফেব্রুয়ারি। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর বিদ্রোহের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দেশের ইতিহাসে এ এক নির্মম ট্র্যাজেডি। তৎকালীন কতিপয় বিপথগামী বিডিআর সদস্যরা এ নির্মম ঘটনা ঘটায়। তাদের নৃশংসতার শিকার হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। ওই ঘটনার পর পরিবর্তন করা হয় এই বাহিনীর নাম। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)’র নাম বিলুপ্ত করে নামকরণ হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিবর্তন করা হয় পোশাক ও লোগো। ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদস্যরা পিলখানায় কিছু দাবির ধুয়া তুলে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। সেদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের দিকে বিজিবির বার্ষিক দরবার চলাকালে দরবার হলে ঢুকে পড়ে একদল বিদ্রোহী সৈনিক। এদের একজন তৎকালীন মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে রাজধানীবাসী। জিম্মি অবস্থায় ফোনে অনেকেই বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন, সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। রক্তে ভেসে যায় পিলখানা। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে রাখে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চারটি প্রবেশপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে তারা। বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশপাশ এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের গুলি করতে থাকে। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকেন সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে। পরে পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুই সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ বিডিআর সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। জিম্মি করে রাখা হয় অনেককে। ওই দিন মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় বিডিআর-এর সদস্যদের একাংশ আত্মসমর্পণ করে। পরদিন ২৬শে ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বিভিন্ন বিডিআর ক্যাম্পে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিডিআরের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা তাদের অস্ত্র জমা দেয়। পরে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ অন্যান্য বাহিনীর হাতে আসার পর উন্মোচিত হয় বিদ্রোহীদের নৃশসংতার চিত্র। একসঙ্গে এত সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকাতুর জাতি স্তব্ধ হয়ে যায় বর্বর এ হত্যাকাণ্ডে।
পিলখানা ট্র্যাজেডি উপলক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

পিলখানা ট্র্যাজেডি আজ

আপডেট সময় : ১২:৫০:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


আজ ২৫শে ফেব্রুয়ারি। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর বিদ্রোহের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দেশের ইতিহাসে এ এক নির্মম ট্র্যাজেডি। তৎকালীন কতিপয় বিপথগামী বিডিআর সদস্যরা এ নির্মম ঘটনা ঘটায়। তাদের নৃশংসতার শিকার হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। ওই ঘটনার পর পরিবর্তন করা হয় এই বাহিনীর নাম। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)’র নাম বিলুপ্ত করে নামকরণ হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিবর্তন করা হয় পোশাক ও লোগো। ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদস্যরা পিলখানায় কিছু দাবির ধুয়া তুলে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। সেদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের দিকে বিজিবির বার্ষিক দরবার চলাকালে দরবার হলে ঢুকে পড়ে একদল বিদ্রোহী সৈনিক। এদের একজন তৎকালীন মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে রাজধানীবাসী। জিম্মি অবস্থায় ফোনে অনেকেই বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন, সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। রক্তে ভেসে যায় পিলখানা। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে রাখে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চারটি প্রবেশপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে তারা। বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশপাশ এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের গুলি করতে থাকে। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকেন সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে। পরে পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুই সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ বিডিআর সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। জিম্মি করে রাখা হয় অনেককে। ওই দিন মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় বিডিআর-এর সদস্যদের একাংশ আত্মসমর্পণ করে। পরদিন ২৬শে ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বিভিন্ন বিডিআর ক্যাম্পে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিডিআরের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা তাদের অস্ত্র জমা দেয়। পরে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ অন্যান্য বাহিনীর হাতে আসার পর উন্মোচিত হয় বিদ্রোহীদের নৃশসংতার চিত্র। একসঙ্গে এত সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকাতুর জাতি স্তব্ধ হয়ে যায় বর্বর এ হত্যাকাণ্ডে।
পিলখানা ট্র্যাজেডি উপলক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভা।