ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সতর্ক ও প্রস্তুত থাকুন: আনসার বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ: নিজের নামের ব্যানার সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ: রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস

কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন এমপিদের চিঠি

কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন এমপিদের চিঠি
ললিত কে ঝা, যুক্তরাষ্ট্র


কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন এমপিদের চিঠি
বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার বিষয়ে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের আইনসম্মত কর্মকাণ্ডকে ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিযুক্ত করার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ১১ জন আইনপ্রণেতা। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কারাবন্দি শ্রমিকদের নেতাদের মুক্তি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। স্বাক্ষরকারীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন কংগ্রেসম্যান জ্যান স্কাভোস্কি, স্যান্ডার লেভিন, বিল পাসক্রেল ও ববি স্কট। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অপর কংগ্রেসম্যানরা হলেন জেমস পি. ম্যাকগভার্ন, মার্ক পোকান, উইলিয়াম কিয়াটিং, জ্যাকি স্পেইয়ার, জোসেফ ক্রাউলি ও স্টিভ কোহেন।

চিঠিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা উন্নতির (শ্রম অধিকার) পিছিয়ে পড়া এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনায় উদ্বিগ্ন।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সব আটক শ্রমিক নেতাদের বিষয়ে দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও আনীত অভিযোগ পর্যালোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। ভুল কারণে আটকদের দ্রুত মুক্তি ও সব ধরনের ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত অভিযোগ প্রত্যাহারে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

কংগ্রেসম্যান স্কাভোস্কির বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের ভুলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৩২ সেন্ট (প্রায় ২৫ টাকা) করার দাবিতে আন্দোলন করায় ১ হাজার ৬০ গার্মেন্ট শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১০০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলছেন, ভুল পথে বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার পরিচালিত হওয়ার কারণে তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের নীতি ও অনুশীলনে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘণের বিষয় সঠিক পথে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের উল্টোপথে পতিপথের প্রত্যক্ষ করায় আমরা উদ্বীগ্ন। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা কারখানা ধসে হাজার শ্রমিক নিহতের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে, রানা প্লাজা ধসে পর বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল, শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধনের অনুমতি এবং জাতীয় শ্রম নীতি ও কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি সংস্কার করা।

বিবৃতিতে মার্কিন এমপিরা বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে জিএসপি অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় থাকা শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ট্রেড ইউনিয়নের অনুমতি প্রদান ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে। কংগ্রেসের পাওয়া তথ্য অনুসারে, নির্দিষ্ট কয়েকটি ইউনিয়নের নিবন্ধনের আবেদন বিবেচনার জন্যই উপযুক্ত মনে করা হয়নি। ’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ওয়াল-মার্ট, ভিএফ কর্পোরেশন, টার্গেট, বার্কশায়ার হাথাওয়ে, কার্টারস, সিয়ার্স হোল্ডিং কর্পোরেশন, পিভিএইচ, গ্যাপ, আইএনসি, জেসি পেনেই কোম্পানি ও কোহল-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন এমপিদের চিঠি

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন এমপিদের চিঠি
ললিত কে ঝা, যুক্তরাষ্ট্র


কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন এমপিদের চিঠি
বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার বিষয়ে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের আইনসম্মত কর্মকাণ্ডকে ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিযুক্ত করার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ১১ জন আইনপ্রণেতা। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কারাবন্দি শ্রমিকদের নেতাদের মুক্তি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। স্বাক্ষরকারীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন কংগ্রেসম্যান জ্যান স্কাভোস্কি, স্যান্ডার লেভিন, বিল পাসক্রেল ও ববি স্কট। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অপর কংগ্রেসম্যানরা হলেন জেমস পি. ম্যাকগভার্ন, মার্ক পোকান, উইলিয়াম কিয়াটিং, জ্যাকি স্পেইয়ার, জোসেফ ক্রাউলি ও স্টিভ কোহেন।

চিঠিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা উন্নতির (শ্রম অধিকার) পিছিয়ে পড়া এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনায় উদ্বিগ্ন।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সব আটক শ্রমিক নেতাদের বিষয়ে দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও আনীত অভিযোগ পর্যালোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। ভুল কারণে আটকদের দ্রুত মুক্তি ও সব ধরনের ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত অভিযোগ প্রত্যাহারে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

কংগ্রেসম্যান স্কাভোস্কির বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের ভুলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৩২ সেন্ট (প্রায় ২৫ টাকা) করার দাবিতে আন্দোলন করায় ১ হাজার ৬০ গার্মেন্ট শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১০০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলছেন, ভুল পথে বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার পরিচালিত হওয়ার কারণে তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের নীতি ও অনুশীলনে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘণের বিষয় সঠিক পথে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের উল্টোপথে পতিপথের প্রত্যক্ষ করায় আমরা উদ্বীগ্ন। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা কারখানা ধসে হাজার শ্রমিক নিহতের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে, রানা প্লাজা ধসে পর বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল, শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধনের অনুমতি এবং জাতীয় শ্রম নীতি ও কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি সংস্কার করা।

বিবৃতিতে মার্কিন এমপিরা বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে জিএসপি অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় থাকা শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ট্রেড ইউনিয়নের অনুমতি প্রদান ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে। কংগ্রেসের পাওয়া তথ্য অনুসারে, নির্দিষ্ট কয়েকটি ইউনিয়নের নিবন্ধনের আবেদন বিবেচনার জন্যই উপযুক্ত মনে করা হয়নি। ’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ওয়াল-মার্ট, ভিএফ কর্পোরেশন, টার্গেট, বার্কশায়ার হাথাওয়ে, কার্টারস, সিয়ার্স হোল্ডিং কর্পোরেশন, পিভিএইচ, গ্যাপ, আইএনসি, জেসি পেনেই কোম্পানি ও কোহল-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয়।