ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সতর্ক ও প্রস্তুত থাকুন: আনসার বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ: নিজের নামের ব্যানার সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ: রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস

যাত্রী আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে সিলেট থেকে হরষপুর পর্যন্ত আন্দোলন করলেও মৌলভীবাজার লাভবান

যাত্রী আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে মৌলভীবাজারের জন্য ৬০টি বাড়তি আসন বরাদ্দ হলেও ২৪ লাখ মানুষের শায়েস্তাগঞ্জ একটিও আসন পায়নি।
সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ছয়টি ট্রেনে দীর্ঘদিন ধরেই হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের তুলনায় মৌলভীবাজারের স্টেশনগুলোতে আসন সংখ্যা বেশি। তবু এ জেলাকে বাদ দিয়ে শুধু মৌলভীবাজারের আসন আরও বাড়ানোয় রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীরা আশাহত হয়েছেন।
ঢাকাগামী সকালের কালনী এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ বরাদ্দ, আসন মাত্র ৫৩টি। জয়ন্তিকায় ৬৪, পারাবতে ৩০ এবং উপবন এক্সপ্রেসে ৫০টি টিকিট থাকলেও কোনোটিতেই এসি কেবিন নেই। অথচ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে কালনীতে ছয়টি এসি কেবিনসহ আসন ১৪৯টি। জয়ন্তিকায় ১১৫, পারাবতে ১৮টি এসি কেবিনসহ ১৬১টি এবং উপবনে ১৩৫টি টিকিট বরাদ্দ, যা শায়েস্তাগঞ্জের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
সিলেট-চট্টগ্রাম রুটেও বৈষম্য স্পষ্ট। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ আসন ৪৪টি, আর উদয়নে রয়েছে মাত্র ৪০টি শোভন চেয়ার, এসি নেই। সেখানে মৌলভীবাজারের দুই স্টেশনে পাহাড়িকায় তিনটি এসি কেবিনসহ ৬৯টি এবং উদয়নে ৫০টি আসন বরাদ্দ থাকে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি রেলওয়েতে টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবিতে যাত্রী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২০টি এবং কুলাউড়া স্টেশনে আরও ৪০টি আসন বাড়ানো হয়েছে, একটি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে। কিন্তু এই বাড়তি বরাদ্দের তালিকায় হবিগঞ্জের নাম নেই। এতে জেলার যাত্রীদের ক্ষো/ভ আরও তীব্র হয়েছে।
টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মঈনুল হাসান রতন বলেন, “হবিগঞ্জকে বঞ্চিত করে মৌলভীবাজারের দুটি স্টেশনে আসন বাড়ানো আমাদের গভীরভাবে আ/হত করেছে। আমরা শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের জন্য অন্তত ৩৫০টি আসন চাই। এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য রেল ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে, হরষপুর রেলস্টেশন পারাবত স্টোপেজ দেওয়ার আন্দোলন ও বৃথা গেল কেউ কোন সুরাহা করার কোন আলোচনা হয় নাই এমনকি হরষপুর স্টেশনে আরো টিকেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও কোন প্রতিকার হয় নি।
হবিগঞ্জের বাসিন্দা সাবেক উপসচিব ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ড. শেখ ফজলে এলাহী বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন। সুনামগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরাও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল টিকিট বরাদ্দে বঞ্চনার শিকার।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

যাত্রী আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে সিলেট থেকে হরষপুর পর্যন্ত আন্দোলন করলেও মৌলভীবাজার লাভবান

আপডেট সময় : ০৯:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

যাত্রী আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে মৌলভীবাজারের জন্য ৬০টি বাড়তি আসন বরাদ্দ হলেও ২৪ লাখ মানুষের শায়েস্তাগঞ্জ একটিও আসন পায়নি।
সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ছয়টি ট্রেনে দীর্ঘদিন ধরেই হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের তুলনায় মৌলভীবাজারের স্টেশনগুলোতে আসন সংখ্যা বেশি। তবু এ জেলাকে বাদ দিয়ে শুধু মৌলভীবাজারের আসন আরও বাড়ানোয় রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীরা আশাহত হয়েছেন।
ঢাকাগামী সকালের কালনী এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ বরাদ্দ, আসন মাত্র ৫৩টি। জয়ন্তিকায় ৬৪, পারাবতে ৩০ এবং উপবন এক্সপ্রেসে ৫০টি টিকিট থাকলেও কোনোটিতেই এসি কেবিন নেই। অথচ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে কালনীতে ছয়টি এসি কেবিনসহ আসন ১৪৯টি। জয়ন্তিকায় ১১৫, পারাবতে ১৮টি এসি কেবিনসহ ১৬১টি এবং উপবনে ১৩৫টি টিকিট বরাদ্দ, যা শায়েস্তাগঞ্জের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
সিলেট-চট্টগ্রাম রুটেও বৈষম্য স্পষ্ট। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ আসন ৪৪টি, আর উদয়নে রয়েছে মাত্র ৪০টি শোভন চেয়ার, এসি নেই। সেখানে মৌলভীবাজারের দুই স্টেশনে পাহাড়িকায় তিনটি এসি কেবিনসহ ৬৯টি এবং উদয়নে ৫০টি আসন বরাদ্দ থাকে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি রেলওয়েতে টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবিতে যাত্রী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২০টি এবং কুলাউড়া স্টেশনে আরও ৪০টি আসন বাড়ানো হয়েছে, একটি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে। কিন্তু এই বাড়তি বরাদ্দের তালিকায় হবিগঞ্জের নাম নেই। এতে জেলার যাত্রীদের ক্ষো/ভ আরও তীব্র হয়েছে।
টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মঈনুল হাসান রতন বলেন, “হবিগঞ্জকে বঞ্চিত করে মৌলভীবাজারের দুটি স্টেশনে আসন বাড়ানো আমাদের গভীরভাবে আ/হত করেছে। আমরা শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের জন্য অন্তত ৩৫০টি আসন চাই। এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য রেল ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে, হরষপুর রেলস্টেশন পারাবত স্টোপেজ দেওয়ার আন্দোলন ও বৃথা গেল কেউ কোন সুরাহা করার কোন আলোচনা হয় নাই এমনকি হরষপুর স্টেশনে আরো টিকেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও কোন প্রতিকার হয় নি।
হবিগঞ্জের বাসিন্দা সাবেক উপসচিব ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ড. শেখ ফজলে এলাহী বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন। সুনামগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরাও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল টিকিট বরাদ্দে বঞ্চনার শিকার।