ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সতর্ক ও প্রস্তুত থাকুন: আনসার বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ: নিজের নামের ব্যানার সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ: রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস

আমরা বিশ্বের কারও কাছে মাথা নত করে চলবো না: প্রধানমন্ত্রী

আমরা বিশ্বের কারও কাছে মাথা নত করে চলবো না: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: আমরা বিশ্বের কারও কাছে মাথা নত করে চলবো না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। আগামী প্রজন্মকে আমাদের গৌরবের ইতিহাস জানতে হবে। আমরা বিশ্বসভায় আমরা মাথা উঁচু করে চলবো। আমরা কারও কাছে মাথা নিচু করবো না। এটাই হবে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের পরিচয়। আমাদের যেটুকু সম্পদ আছে তা নিয়েই আমরা সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো।’

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘রক্ত দিয়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মর্যাদা অবশ্যই দিতে হবে। দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা শুরু করি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকার এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে আমরা আবার ক্ষমতায় এসে কাজ শেষ করেছি। কোনও দেশের হারিয়ে যাওয়া ভাষা-মাতৃভাষা আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষণ করছি। সে ভাষা নিয়ে গবেষণাও করছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে নাকি ২৫ লাখ মানুষ শহীন হননি। এর চাইতে বড় লজ্জা আর কিছু হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এ দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গি, মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সবাইকে এগিয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

এরআগে ‘অপরাজেয় বাংলার’ ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং দৈনিক জনকন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়সহ ১৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের হাতে ২০১৭ সালের ‘একুশে পদক’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সংগীত, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য, নাটক ও নৃত্য), সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা, ভাষা ও সাহিত্যে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

পুরস্কার হিসেবে একটি সনদপত্র, স্বর্ণপদক এবং দুই লাখ টাকার চেক বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম শফিউল আলম পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিচারপতিবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কমৃকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পদক বিজয়ী অন্যরা হচ্ছেন- ভাষা আন্দোলনের জন্য ভাষাসৈনিক অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন, শিল্পকলায় (সংগীত) সুষমা দাস, ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম (বংশীবাদক,শাস্ত্রীয় সঙ্গীত), জুলহাস উদ্দিন আহমেদ (স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী), শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) তানভীর মোকাম্মেল (লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা), শিল্পকলায় (নাট্যশিল্পী) সারা যাকের, গবেষণায় সৈয়দ আকরম হোসেন, শিক্ষায় প্রফেসর ইমেরিটাস আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও লেখক), সাংবাদিকতায় আবুল মোমেন, সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান (আইপিজিএমআর’কে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারি), ভাষা ও সাহিত্যে সুকুমার বড়ুয়া (ছড়াকার), শিল্পকলায় (নৃত্য) শামীম আরা নীপা এবং শিল্পকলায় (সংগীত) রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম ওরফে মাহমুদ সেলিম (গণসঙ্গীত শিল্পী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদকারি) এবং ভাষা ও সাহিত্যে (মরণোত্তর) কবি ওমর আলী।

বিজয়ী সকলেই প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন। মরণোত্তর কবি ওমর আলীর পক্ষে তার ছেলে মো. রফি মনোয়ার আলী প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

আমরা বিশ্বের কারও কাছে মাথা নত করে চলবো না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আমরা বিশ্বের কারও কাছে মাথা নত করে চলবো না: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: আমরা বিশ্বের কারও কাছে মাথা নত করে চলবো না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। আগামী প্রজন্মকে আমাদের গৌরবের ইতিহাস জানতে হবে। আমরা বিশ্বসভায় আমরা মাথা উঁচু করে চলবো। আমরা কারও কাছে মাথা নিচু করবো না। এটাই হবে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের পরিচয়। আমাদের যেটুকু সম্পদ আছে তা নিয়েই আমরা সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো।’

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘রক্ত দিয়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মর্যাদা অবশ্যই দিতে হবে। দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা শুরু করি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকার এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে আমরা আবার ক্ষমতায় এসে কাজ শেষ করেছি। কোনও দেশের হারিয়ে যাওয়া ভাষা-মাতৃভাষা আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষণ করছি। সে ভাষা নিয়ে গবেষণাও করছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে নাকি ২৫ লাখ মানুষ শহীন হননি। এর চাইতে বড় লজ্জা আর কিছু হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এ দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গি, মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সবাইকে এগিয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

এরআগে ‘অপরাজেয় বাংলার’ ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং দৈনিক জনকন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়সহ ১৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের হাতে ২০১৭ সালের ‘একুশে পদক’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সংগীত, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য, নাটক ও নৃত্য), সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা, ভাষা ও সাহিত্যে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

পুরস্কার হিসেবে একটি সনদপত্র, স্বর্ণপদক এবং দুই লাখ টাকার চেক বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম শফিউল আলম পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিচারপতিবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কমৃকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পদক বিজয়ী অন্যরা হচ্ছেন- ভাষা আন্দোলনের জন্য ভাষাসৈনিক অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন, শিল্পকলায় (সংগীত) সুষমা দাস, ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম (বংশীবাদক,শাস্ত্রীয় সঙ্গীত), জুলহাস উদ্দিন আহমেদ (স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী), শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) তানভীর মোকাম্মেল (লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা), শিল্পকলায় (নাট্যশিল্পী) সারা যাকের, গবেষণায় সৈয়দ আকরম হোসেন, শিক্ষায় প্রফেসর ইমেরিটাস আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও লেখক), সাংবাদিকতায় আবুল মোমেন, সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান (আইপিজিএমআর’কে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারি), ভাষা ও সাহিত্যে সুকুমার বড়ুয়া (ছড়াকার), শিল্পকলায় (নৃত্য) শামীম আরা নীপা এবং শিল্পকলায় (সংগীত) রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম ওরফে মাহমুদ সেলিম (গণসঙ্গীত শিল্পী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদকারি) এবং ভাষা ও সাহিত্যে (মরণোত্তর) কবি ওমর আলী।

বিজয়ী সকলেই প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন। মরণোত্তর কবি ওমর আলীর পক্ষে তার ছেলে মো. রফি মনোয়ার আলী প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন।